নিজস্ব প্রতিবেদক
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রিন্ট ১৭ বার পঠিত
মশা নিধনে ভেজাল কীটনাশকের পরিবর্তে কেরোসিন সরবরাহ, বাসাবাড়ির বর্জ্য সংগ্রহে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, অবৈধ দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজিসহ শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের যোগসাজশে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে সহকারী পরিচালক মেহেদী মুসা জেবিন ও উপসহকারী পরিচালক হাবিবুর রহমানের সমন্বয়ে পাঁচ সদস্যের একটি দল ডিএসসিসিতে এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করে। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযান শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, ডিএসসিসিতে মশা নিধনের জন্য কীটনাশক সরবরাহ ও ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগটি বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি ঠিকাদারি চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশে নিম্নমানের বা ভেজাল কীটনাশক সরবরাহের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাত করা হচ্ছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১১ ও ২০১৯ সালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ভেজাল কীটনাশক সরবরাহের অভিযোগে ‘দি লিমিট অ্যাগ্রো’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়। এরপর ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা নাম ও প্রতিষ্ঠানের কাঠামো পরিবর্তন করে ‘ফরোয়ার্ড ইন্টারন্যাশনাল’ নামে নতুন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ডিএসসিসিতে কাজ শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত দুই বছরে ওই চক্রকে তিনটি কার্যাদেশের মাধ্যমে প্রায় ৪৮ কোটি টাকার কীটনাশক সরবরাহের কাজ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় মানসম্মত কীটনাশক দেখানো হলেও মাঠপর্যায়ে ফগিংয়ের সময় প্রকৃত কীটনাশকের পরিবর্তে কেরোসিন ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে।
এ ঘটনায় ডিএসসিসির মশক নিবারণী দপ্তরের স্টোরকিপার ও হিসাব শাখার কয়েকজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও করা হয়েছে। দুদকের অভিযানের সময় এসব অভিযোগের নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম যাচাই করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
ডিএসসিসির বাসাবাড়ির বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থাপনাতেও অনিয়ম ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, সিটি করপোরেশনের নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ফ্ল্যাট থেকে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা নেওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন এলাকায় এর চেয়ে বেশি অর্থ আদায় করা হচ্ছে।
ধানমন্ডি, আজিমপুর, কাঁঠালবাগান, কায়েতটুলী ও যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়ির বাসিন্দাদের কাছ থেকে মাসে ১২০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকেও সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, বর্জ্য সংগ্রহের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র অবৈধভাবে অর্থ সংগ্রহ করছে। এর সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশ রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
এ ছাড়া দরপত্রের মাধ্যমে কাজ পাওয়া ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখানো, মারধর এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বৈধভাবে পাওয়া কাজ অন্যদের দিয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, বৈধ ঠিকাদাররা কোটি টাকা জামানত দিয়ে কাজ পাওয়ার পরও প্রভাবশালী একটি চক্র তাদের কাছ থেকে কাজ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। বর্জ্য সংগ্রহের নামে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্য হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে এ বিষয়ে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জনসংযোগ কমকর্তা রাসেল রহমানকে কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
Posted ০৬:৫৩ অপরাহ্ণ | বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com